আশুলিয়ায় গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে অচেতন করে নির্যাতন,আটক ৪ শিক্ষার্থী

আইন বিভাগের নারী শিক্ষার্থীকে অচেতন করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ছড়িয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪
সাব্বির মৃধা (সাভার প্রতিনিধি)আশুলিয়ার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থীকে পিকনিকের প্রলোভন দেখিয়ে অচেতন করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও রেকর্ড এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে পিকনিকে নেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায় আসামিরা। কোমল পানীয় ‘মজো’র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে পান করালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন ওই নারী শিক্ষার্থী । ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে শিক্ষার্থী নিজেকে ফুলেরটেকের একটি মেসে দেখতে পান এবং বুঝতে পারেন যে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে।
এ সময় ডাকচিৎকার করলে আসামিরা ধারণকৃত ভিডিও ও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পাশাপাশি মুখে এসিড নিক্ষেপের ভয় দেখিয়ে একাধিক ধাপে জিম্মি করে তার কাছ থেকে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর রাতেই অভিযান চালিয়ে চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— দেলোয়ার ভূইয়া (২৬), তাজুল ইসলাম তাজ (২৩), শ্রাবণ শাহা (২৩) এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান (২৮)।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার অন্তু দেওয়ান গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ানের চাচাতো ভাই। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

