ঈদুল ফিতরের পর বইমেলার দাবিতে প্রকাশকদের সংবাদ সম্মেলন

ঈদুল ফিতরের পর বইমেলার দাবিতে প্রকাশকদের সংবাদ সম্মেলন
(নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকা)আসন্ন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন দেশের সৃজনশীল প্রকাশকরা। তাঁদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে রোজা, ঈদ এবং জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের কারণে এই সময়ে মেলা আয়োজন করা হলে প্রকাশনা শিল্প বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ প্রকাশকদের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে না বলেও আলটিমেটাম দেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনীগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আহমদ পাবলিশিং হাউজের মেছবাহউদ্দীন আহমদ, কাকলীর এ কে নাসির আহমেদ, অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম, অনন্যার মনিরুল হক, ইউপিএল-এর মাহরুখ মহিউদ্দীন, প্রথমা প্রকাশনের মো. মোবারক হোসেন এবং আদর্শ প্রকাশনের মাহাবুব রাহমানসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
সংকটের ত্রিমাত্রিক কারণ
প্রকাশকদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রকাশনা শিল্প বর্তমানে এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। গ্লোবাল রিডিং ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বই বিক্রির নিম্নগতি এই শিল্পকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বাধার কথা তুলে ধরা হয়।
প্রথমত, অর্থনৈতিক বাস্তবতা। ফেব্রুয়ারিতে রোজা ও সামনে ঈদ থাকায় মানুষের ব্যয়ের অগ্রাধিকার বদলে যাবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মেলার বড় ক্রেতা শিক্ষার্থীরা ঢাকায় থাকবেন না।
দ্বিতীয়ত, লজিস্টিক ও নির্বাচনজনিত সমস্যা। জাতীয় নির্বাচনের কারণে শ্রমিক সংকট এবং নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে স্টল নির্মাণ ও মেলা আয়োজন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে জানান প্রকাশকরা।
তৃতীয়ত, মানবিক ও ধর্মীয় কারণ। স্টল কর্মীদের বড় অংশ শিক্ষার্থী। রোজা রেখে কাজ করা এবং ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে তাঁদের দিয়ে কাজ করানো অমানবিক বলে দাবি করা হয়।
চার দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে— আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বইমেলা ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া, প্রকাশকদের বর্তমান আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে স্টল ভাড়া মওকুফ ও সরকারি খরচে অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ‘বই-ভাতা’ বা প্রণোদনা চালু এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারিভাবে প্রতিটি বইয়ের অন্তত ৩০০ কপি ক্রয়ের ব্যবস্থা।
প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) মাধ্যমে ২৬২ জন প্রকাশকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি চিঠি প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকাশকরা আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস প্রকাশনা শিল্পের এই সংকট অনুধাবন করবেন।
অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল হক বলেন, “আমরা মেলা চাই, কিন্তু লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ধ্বংস হতে চাই না।”
সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রকাশকদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশ্যে রওনা হন।



