জাতি হারাল আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক

জাতি হারাল আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক
সাব্বির মৃধা (নিজস্ব প্রতিনিধি)ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি হারাল এক আপসহীন, দৃঢ়চেতা ও ইতিহাসগড়া নেত্রীকে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের গল্প নয়—এটি ছিল গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকার রক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামের নাম।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। স্বামীর শাহাদাতের পর কঠিন সময়েই রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ধীরে ধীরে দলীয় নেতৃত্বে উঠে এসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর হাল ধরেন এবং হয়ে ওঠেন গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন দৃঢ় কণ্ঠে।
রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। কারাবরণ, অসুস্থতা ও প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি কখনো আপস করেননি—এই আপসহীনতাই তাঁকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা, আর বিরোধীদের কাছেও এক অস্বীকার্য রাজনৈতিক বাস্তবতা।
আজ তাঁর ইন্তেকালে শোকাহত পুরো জাতি। রাজনীতির অঙ্গন ছাড়িয়ে তিনি থেকে যাবেন ইতিহাসের পাতায়—একজন শক্তিশালী নারী নেতা, যিনি সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বিশ্বাসে ছিলেন অবিচল।
আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

